মেডিক্যাল ডিভাইসে সম্ভাবনা অফুরান

Thursday 4th of May 2017
জেএমআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাকের হাতে বিবার্তা স্বর্ণপদক তুলে দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান ড. মজিব উদ্দিন আহমেদ
দেশের খ্যাতিমান শিল্পপরিবার জেএমআই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘বাংলাদেশ ওষুধশিল্পে ৯৯ ভাগ স্বাবলম্বী হলেও মেডিক্যাল ডিভাইস উৎপাদনে পাঁচ ভাগও স্বাবলম্বী নয়। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে পারলে মেডিক্যাল ডিভাইসেও বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ রফতানিকারক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারবে।’
আজ বিবার্তা কার্যালয়ে শিল্পোদ্যাক্তা ক্যাটাগরিতে বিবার্তা গুণীজন সম্মাননা নেয়ার পর আব্দুর রাজ্জাক এ মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, আগামী ২ মে জাতীয় গণগ্রন্থাগার কেন্দ্রের শওকত ওসমান মিলনায়তনে দ্বিতীয় বারের মতো বিবার্তা গুণীজন সম্মাননা দেয়া হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ব্যবসায়িক কাজ থাকায় শিল্পপতি আব্দুর রাজ্জাকের হাতে শনিবারই স্বর্ণপদক তুলে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান ড. মজিব উদ্দিন আহমেদ। এ সময় বিবার্তা সম্পাদক বাণী ইয়াসমিন হাসি, বার্তা সম্পাদক হুমায়ুন সাদেক চৌধুরীসহ বিবার্তা পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
 
 
শিল্পপতি আবদুর রাজ্জাক বিবার্তার পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে বলেন, জীবনে সফল হতে হলে আগে যোগ্যতা অর্জনে মনোনিবেশ করতে হবে। যোগ্য হলে সফলতা আসবেই। তিনি বলেন, ‘এক সময় স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বো। কিন্তু আমার সেই সৌভাগ্য হয়নি। কিন্তু আজ খুব খুশি লাগছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সম্মানিত শিক্ষকের হাত থেকে আমি বিবার্তা গুণীজন সম্মাননা নিলাম।’ তিনি জানান, তার জেএমআই গ্রুপে এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী কাজ করছে।
 
সভার প্রধান অতিথি আইসিবি চেয়ারম্যান ড. মজিব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে মেডিক্যাল পণ্য উৎপাদনে জেএমআই গ্রুপই প্রথম এগিয়ে এসেছে। আমরা আশা করছি, নবীন উদ্যোক্তারা জেএমআই গ্রুপের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।’

উল্লেখ্য, মানবতার সেবা করার ঘোষণা দিয়ে গড়ে ওঠা দেশের খ্যাতিমান শিল্পপরিবার জেএমআই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক শীর্ষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে চলতি বছর সিআইপি (কমার্শিয়ালি ইম্পরটেন্ট পারসন) খেতাব পান। তবে খেতাব তাঁর মূল লক্ষ্য নয়। মানবতার অবিরাম সেবার মাঝেই তিনি জীবনের সার্থকতার সূত্র খুঁজে পান; দেশ ও দশের কল্যাণের পথরেখা দেখতে পান।
 
 
বিশেষত জেএমআই গ্রুপের ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্যাস স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের মেডিকেল/সার্জিকেল ডিভাইস জীবাণুমুক্তকরণের জন্য এবং হাসপাতালে ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশে ২০১৬ সালের আগে এ ধরনের কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই ছিল না।

১৯৬৩ সালে আবদুর রাজ্জাক জন্মগ্রহণ করেন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার আজিজপুর গ্রামে। তার বাবা ছিলেন মরহুম মো. সাইফুল্লাহ। মাতা হলেন আনোয়ারা বেগম। খ্যাতিমান এই ব্যবসায়ী নেতা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি জাপানে ছয় বছর অবস্থানকালে স্টেরাইল মেডিক্যাল ডিভাইস উৎপাদনের বিশেষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তারই প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে তিনি চলতি বছর জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে সিআইপি খেতাবে ভূষিত হন।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রজেক্ট হিসেবে ইতিমধ্যে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ডের উদ্যোক্তারা জেএমআই গ্রুপের শিল্প প্রতিষ্ঠানে দেড় হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। বিশেষত বিশ্বায়নের এই যুগে জেএমআই শিল্প গ্রুপ দেশের হেলথ কেয়ার সেক্টরে জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রকল্পে অগ্রনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেস হচ্ছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত কোম্পানি।

বাংলাদেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার ২০টি দেশে মেডিকেল পণ্য রপ্তানি করে জেএমআই গ্রুপ ইতিমধ্যে দেশের অর্থনীতির বিকাশে বড় মাপের ভূমিকা পালন করছে। বিশ্ব মানের পণ্য উৎপাদনের সুবাদে জেএমআই গ্রুপ জিএমপি, আইএসও, সিই ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সনদ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। দিন দিন এই শিল্পগ্রুপের শিল্পপণ্য আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা আদায় করে নিতে পারছে। বিশেষত মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির আদলে গড়ে ওঠা জেএমআই গ্রুপ তাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠার পথে আলোকবর্তিকা হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

১৯৯৯ সালের এপ্রিলে জেএমআই প্রতিষ্ঠিত হলেও স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বিশ্ব মানের পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে নিজের একটা সম্মানজনক ব্রান্ডিং প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়। দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে ইতিমধ্যে এই শিল্প গ্রুপের অফিস খোলা হয়েছে। কর্মীর সংখ্যাও পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। জেএমআই গ্রুপের শিল্পপণ্যের গন্তব্য এখন বিশ্ববাজার। পাশাপাশি বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য উৎপাদনের ভিশন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে জেএমআই গ্রুপ। দেশের সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি রয়েছে জেএমআই গ্রুপের সুদৃঢ় আস্থা। আবদুর রাজ্জাক বিশ্বাস করেন, নিজ দেশের সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান জানানো তাঁর নৈতিক দায়িত্ব।
 
 
শিল্পোদ্যোক্তা আবদুর রাজ্জাক উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গড়ার কাজে অবদান রাখার লক্ষ্যে সতর্ক অধ্যবসায়ে এগিয়ে যেতে চাইছেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর নিজস্ব ভিশনও রয়েছে। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাকে তিনি তার ব্যবসায়ের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছেন। সমাজের টেকসই উন্নয়নে নিজেকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতির বিকাশ তাঁর লক্ষ্য। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও করপোরেট রেসপনসিবিলিটি (সিআর) দর্শনের আলোকে জেএমআই গ্রুপ নানা ধরনের সিআর তৎপরতায় সম্পৃক্ত। জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণেও আবদুর রাজ্জাক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখার চেতনা থেকে জেএমআই গ্রুপ অনেক এনজিওকে নানা ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতা গড়তে তার প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে পৃষ্ঠপোষকতাও করছে। তিনি বিশ্বাস করে, ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশ যেমন করে আন্তর্জাতিক মহলের সমীহ আদায় করতে পেরেছে, মেডিক্যাল পণ্য উৎপাদনেও বাংলাদেশ সমান দক্ষতা দেখাতে সক্ষম।

উল্লেখ্য, বরাবরের মতো দেশের জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা বিবার্তা২৪.নেট এবারও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মোট দশটি ক্যাটাগরিতে ১১জনকে সম্মাননা দেবে আগামী ২ মে।
 
বিবার্তা সম্মাননা নেয়ার পর আব্দুর রাজ্জাক